কিশোরগঞ্জ থেকে নিজাম উদ্দীন।
বাংলার চিরায়ত লোকসংগীত বা ফোক গান এখন আর কেবল গ্রামবাংলার মেঠো পথেই সীমাবদ্ধ নেই; আধুনিক বাদ্যযন্ত্র আর নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের ছোঁয়ায় তা পৌঁছে গেছে জনপ্রিয়তার শিখরে। হারিয়ে যেতে বসা এসব গানকে আধুনিকতার মোড়কে পরিবেশন করে বর্তমান প্রজন্মের যে কজন শিল্পী শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম কিশোরগঞ্জের তরুণ ফোক শিল্পী রুপা।
বাঙালি শ্রোতারা বরাবরই বৈচিত্র্যময় গানের সমঝদার। রোমান্টিক আধুনিক গান কিংবা জীবনমুখী গানের পাশাপাশি বাউল ও লোকসংগীতকে বাঙালি বরাবরই হৃদয়ে আগলে রেখেছে। সেই ধারাকে পুঁজি করেই বর্তমানে বহু তরুণ শিল্পী ফোক গানকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করছেন। রুপা তাঁদেরই একজন, যিনি মাটির গানকে আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের সহযোগিতায় আকর্ষণীয় করে তুলে মঞ্চ মাতাচ্ছেন।
কিশোরগঞ্জের এই গুণী শিল্পী এখন প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলায় সংগীত পরিবেশন করছেন। বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেলের জনপ্রিয় শো-গুলোতে তাঁর গান ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে তাঁর গওয়া গানগুলো দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে, যা তাঁকে পৌঁছে দিচ্ছে কোটি মানুষের কাছে। সংগীতকে হাতিয়ার করেই তাঁর এই উত্থান।
নিজের এই সাফল্য ও সংগীত ভাবনা নিয়ে শিল্পী রুপা বলেন
“বাংলার বিভিন্ন জেলার প্রাচীন সংগীত থেকেই মূলত বাংলা গানের জন্ম। তাই এসব গানের বয়স হলেও তা মানুষের কাছে কখনো পুরোনো হয় না। আমি এই গানকেই আধুনিক রূপ দিয়ে গেয়ে শ্রোতাদের অকুন্ঠ ভালোবাসা পাচ্ছি। ফোক গান হলো আমাদের সংগীতের শিকড়। আমি সবসময় চেষ্টা করি দর্শকদের ভালো কিছু উপহার দিতে।”
তিনি আরও জানান, তাঁর এই সংগীতযাত্রায় সবচেয়ে বড় প্রেরণা তাঁর বাবা-মা। ছোটবেলা থেকেই গান শুনে বড় হওয়া রুপা বিশ্বাস করেন, আধুনিকতার ছোঁয়া থাকলেও গানের মূল আবেদনটি বজায় রাখা জরুরি।
বাংলার লুপ্তপ্রায় লোকগীতিগুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ শুধু রুপাকে জনপ্রিয়তাই দেয়নি, বরং বাংলা গানের সমৃদ্ধ ইতিহাসকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তুলছে। আধুনিক বাদ্যযন্ত্র আর ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন আগামীতে বাংলা সংগীতকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে এমনটাই প্রত্যাশা সংগীত অনুরাগী ও বিশেষজ্ঞদের।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ জাকির হোসেন (মনু)
zakirhossain215@gmail.com
01712364264
Copyright © 2026 banglaralotv. All rights reserved.