টি এম কামালঃ
সিরাজগঞ্জের কাঁঠালের চাহিদা রয়েছে দেশব্যাপী। প্রায় প্রতিদিনই এখানকার হাট বাজার থেকে পাইকাররা কাঁঠাল কিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে। হাটে-বাজারে প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে হাজার হাজার কাঁঠাল। গাছ থেকে কেউ পাড়ছে, কেউ খাচ্ছে, কেউবা বিক্রির জন্য হাটে-বাজারে নিয়ে যাচ্ছে। জেলার প্রতিটি উপজেলার প্রায় সব পাড়া মহল্লায় এমন দৃশ্য প্রতিয়মান হয়। গ্রাম এলাকার বাগান মালিকেরা প্রতিদিন ভোরে বাগান থেকে পাকা কাঁঠাল সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য ভ্যান, রিক্সা এবং পিকআপ করে নিয়ে আসছেন শহর সহ বিভিন্ন হাট বাজারে। বর্তমানে এ অঞ্চলে চলছে কাঁঠালের ভরা মৌসুম।
সিরাজগঞ্জের উৎপাদিত কাঁঠাল মিষ্টি, সুস্বাদু ও স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতেও এর চাহিদা রয়েছে। জেলার তাড়াশ, রায়গঞ্জ, কাজিপুর, কামারখন্দ, বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ সদরসহ প্রতিটি উপজেলায় এবার ব্যাপক ভাবে কাঁঠালের উৎপাদন হয়েছে। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। রায়গঞ্জ শ্রীদাসগাতী গ্রামের হাসমত আলী বলেন, তার বেশ কয়েকটি কাঁঠাল গাছে অন্যান্য বারের তুলনায় এবারে বেশি কাঁঠাল ধরেছে। কাঁঠাল বিক্রি করে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল গ্রামের আক্কেল সেখ জানায়, গ্রাম বাঙলার মানুষের কাছে কাঁঠাল যুগ যুগ ধরে কদর পেয়ে আসছে। বাঙালির পান্তা-কাঁঠাল একটি প্রিয় খাদ্য। তাছাড়াও কাঁঠালের বিচি অন্যান্য কাচা তরকারির চাহিদা পূরণ করে। রান্নার পাশাপাশি কাঁঠালের বিচি ভর্তা করে খাওয়া যায়। কামারখন্দের ধলেশ্বর গ্রামের কৃষক তোজেম উদ্দিন জানায়, কাঁঠালের কোষ (কোয়া) যেমন বাঙালির প্রিয় খাদ্য ঠিক তেমনি গরু, মহিষসহ গবাদি পশুর জন্য গো-খাদ্য হিসেবে পাকা কাঁঠালের ছাল (খোসা) গো খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তিনি আরও জানান, ভেড়া, ছাগলের জন্য কাঁঠালের পাতা বারো মাসই খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সিরাজগঞ্জ জেলার পিপুলবাড়িয়া, সোনামুখি, আলমপুর, মেঘাই, গান্ধাইল, সমেশপুর, রাজাপুর, কামারখন্দ ও জেলা সদরের কাচা বাজারে ব্যাপক কাঁঠাল আমদানি পরিলক্ষিত হয়। কাঁঠাল বিক্রেতো জসিম উদ্দিন জানায়, অন্যান্য বাড়ের তুলনায় এবারের কাঁঠালের দাম একটু বেশি। কাঁঠাল আকার ভেদে ৩০/৪০ টাকা থেকে ১৫০/২০০ দরে বিক্রি হয়। ক্রেতা শরীফা বেগম জানায়, ছেলে মেয়ের চাহিদা এবং চাপে পড়ে কাঁঠাল কিনতে এসেছি। দাম একটু বেশি হলেও ব্যাপক কাঁঠাল পাওয়া যায়।
সিরাজগঞ্জ পৌর কাচা বাজারে আড়তদার হাফিজুল ইসলাম জানায়, এবার কাঁঠালের ব্যাপক মজুদ রয়েছে। নিত্যদিনই সকাল সন্ধ্যা বিভিন্ন উপজেলা থেকে আড়তে কাঁঠাল বিক্রির জন্য নিয়ে আসে ব্যবসায়ীরা। তিনি আরও জানান, সিরাজগঞ্জের কাঁঠালের মান ভাল হওয়ায় জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী সহ বিভিন্ন জেলার বাজার ও দখল করেছে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত জানান, জাতীয় ফল কাঁঠাল সুস্বাদু ও অতি পরিচিত একটি ফল। ডাইবেটিস, ওজন নিয়ন্ত্রণসহ হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। এবার সিরাজগঞ্জে ব্যাপক কাঁঠালে উৎপাদন হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলার প্রতিটি উপজেলায় কাঁঠালের ব্যাপক উৎপাদন হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক আঃ জাঃ মুঃ আহসান শহীদ সরকার বলেন, কাঁঠাল একটি উপকারি ফল। যা মানুষ এবং গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কাঁঠাল উৎপাদনে তেমন কোন খরচ হয় না। লাভ বেশি হওয়ায় চাষীরা কাঁঠাল চাষে ঝুকে পড়েছে। এবছর সিরাজগঞ্জ কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ জাকির হোসেন (মনু)
zakirhossain215@gmail.com
01712364264
Copyright © 2026 banglaralotv. All rights reserved.