
নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাসরত এবং চরম অর্থকষ্টে পচা ভাত খেয়ে ইফতার করা সেই অসহায় নারী আয়েশা বেগমকে ঈদের আগে নতুন ঘর করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
আজ বিকালে নাছির উদ্দীন নাছিরের পক্ষ থেকে ওই মহিলার পরিবারের হাতে নগদ অর্থ, ইফতার সামগ্রী, চাল, ডালসহ প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য তুলে দেন মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম আজাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিব উল্যাহ বাবুল, যুবদলের সভাপতি জাফর উল্যাহ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফাহিম সহ নেতৃবৃন্দ। সহায়তা হস্তান্তরের সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা নাছির উদ্দীন নাছির ভিডিও কলে আয়েশা বেগমের সঙ্গে কথা বলেন এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই তার জন্য একটি নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
উল্লেখ্য, নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামের বাসিন্দা আয়েশা বেগম প্রায় দুই বছর আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্বামী আমির হোসেন লেদুকে হারান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির আকস্মিক মৃত্যুতে তিন সন্তান মো. সজিব, মো. সৌরভ ও মো. সবুজকে নিয়ে চরম বির্পযয়ের মুখে পড়েন তিনি। সন্তানদের নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে আয়েশা বেগম অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় দিন কাটছে এই পরিবারের। অভাবের তাড়নায় কখনো শুধু পানি খেয়ে, আবার কখনো পচা বা বাসি ভাত খেয়েই তাদের সেহরি ও ইফতার করতে হচ্ছে। এমন সংবাদ প্রকাশ্যে এলে তা ছাত্রদল নেতা নাছির উদ্দীন নাছিরের নজরে আসে এবং তিনি তাৎক্ষণিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আমির হোসেন পেশায় একজন পিকআপ চালক ছিলেন। অন্যের গাড়ি ভাড়া নিয়ে সবজি পরিবহন করে তিনি সংসার চালাতেন। তবে ভয়াবহ বন্যায় এলাকার সবজিখেত তলিয়ে যাওয়ায় তার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে তিনি গাছ টানার কাজ শুরু করেন। ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পিকআপ নিয়ে গাছ উত্তোলনের কাজ করার সময় একটি বড় গাছ গায়ের ওপর পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে কোনো আয়ের উৎস না থাকায় সন্তানদের নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন পার করছিলেন আয়েশা বেগম। এবার ছাত্রদল নেতার পক্ষ থেকে ঘর ও খাদ্য সহায়তার আশ্বাস পেয়ে আয়েশার পরিবারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।



