
হুমায়ন আকাশ, নোয়াখালী প্রতিনিধি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া এমন এক নাম, যা উপেক্ষা করা অসম্ভব। তিনি শুধু দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নন, বরং একজন সংগ্রামী নেত্রী, একজন মমতাময়ী মা এবং গণতন্ত্র রক্ষার এক প্রতীক।
১৯৯১ সালে তিনি যখন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন, তখনো বাংলাদেশ অনেক দিক থেকেই পিছিয়ে ছিল। সেই সময়ে তাঁর নেওয়া পদক্ষেপগুলো আজও আলোচিত—
– দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু
– সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসার
-বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি
– গ্রামীণ উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব
এসব উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি পরিবর্তন এনেছিল। বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত করেছে। এছাড়াও ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তৎকালীন শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক কে দিয়ে বাংলাদেশে শিক্ষাক্ষেত্রে নকল এর পরিমাণ প্রায় শূন্যর কোটায় নিয়ে এসেছিলেন। অপরদিকে বিগত শেখ হাসিনার সরকার আমলে হয়েছিল নকলের জয়জয়াকার । আর ঠেকেছিল শিক্ষার মান তলানিতে। কিন্তু শুধু উন্নয়নই বা শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান হলো গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। সামরিক শাসনের পতন থেকে শুরু করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা— প্রতিটি লড়াইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বেগম খালেদা জিয়ার নাম।
তিনি একাধিকবার কারাবন্দী হয়েছেন, অসুস্থ থেকেও সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু কখনো নিজের অবস্থান থেকে সরে যাননি। কারণ তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল— দেশ ও জনগণের অধিকার। তাকে ১/১১ এর সময় দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য অনেক ষড়যন্ত্র করা হয়। মিথ্যা মামলায় কারাভোগ করেছেন। কিন্ত কোনভাবেই তাকে দেশ থেকে বের করা যায়নি।
আজকের বাংলাদেশে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা, আওয়ামীলীগ আমলে গণতন্ত্রের সংকট আর জনগণের কণ্ঠরোধ নিয়ে আলোচনা হয়, তখন তাঁর সংগ্রামের ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়।
রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতায় থাকা নয়, রাজনীতি মানে দেশ ও দেশের জনগণের জন্য লড়াই করা।
“গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে জনগণের মতামত ও অধিকারকে সর্বাগ্রে স্থান দিতে হবে।”
এই একটি বাক্যেই বোঝা যায় তাঁর চিন্তা-চেতনা কতটা জনগণকেন্দ্রিক ছিল। আজকের বাস্তবতায় এই উক্তিটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার জীবন আমাদের শেখায়—
-সংগ্রাম ছাড়া সাফল্য আসে না।
– ত্যাগ ছাড়া অর্জন টিকে থাকে না।
– আর গণতন্ত্র মানে হলো জনগণের কণ্ঠস্বরকে শোনা।
যখন এই কথাগুলো আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে পারবো। তখনই আমরা জনগনকে একটি সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দিতে পারবো। আমরা সবাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্যতা কামনা করি এবং তার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করবো।



