
বাংলার আলো টিভি ডেস্কঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শেষ হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তির শেষ দিন রবিবার পর্যন্ত ৪১৭ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আপিলে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে আগে বৈধ ঘোষিত ছয় প্রার্থীর। এখন পর্যন্ত মোট বৈধ প্রার্থী দাঁড়াল ২২৫৩ জন। এদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে নবম দিনের আপিল শুনানি চলে। এ সময় চার নির্বাচন কমিশনারও উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, আপিল শুনানি শেষে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত হবে কতজন প্রার্থী ভোটে থাকবে।
২১ জানুয়ারি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রতীক পাবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে। একই দিন গণভোটও হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৯ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময়ে এবার ৩০০ সংসদীয় আসনে আড়াই হাজার মনোনয়নপত্র জমা পড়ে।
৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ে ৭২৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিলের পর বৈধ প্রার্থী ছিলেন ১৮৪২ জন।
রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়রি থেকে আপিল আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৬৪৫ জন আপিল করেছেন। ১০ জানুয়ারি থেকে আপিল শুনানি শুরু হয়ে একটানা ১৮ জানুয়ারি রবিবার পর্যন্ত চলে। অবশ্য পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে আগে বৈধ হওয়া ১১ জন প্রার্থী (আগের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা ১৩ জনের) এ তালিকা থেকে বাদ যাবে। ভোটের দিন একই রেখে এ দুই আসনে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী রবিবার ছিল এই দুটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। শেষ দিনে পাবনা-১ আসনে ৭টি ও পাবনা-২ আসনে ৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
নির্বাচন কমিশন-ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, রবিবার ৬৩টি আপিল আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করা হয়। মঞ্জুর হয়েছে ২৩টি আপিল। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল মঞ্জুর হওয়ায় প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ২১ জন। মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল মঞ্জুর হওয়ায় বাদ পড়েছেন দুইজন। কমিশন ৩৫টি আপিল নামঞ্জুর করেছে। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে নামঞ্জুর হয়েছে ১৮টি ও মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে নামঞ্জুর হয়েছে ১৬টি আবেদন। এছাড়া মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখার একটি আপিল নামঞ্জুর হয়েছে। শুনানিকালে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে তিনটি আপিল আবেদন। একজন আপিলকারী অনুপস্থিত ছিলেন। কমিশন দুটি আপিল আবেদন অপেক্ষমাণ রেখেছে।
এবার ৬৪৫ জন আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ৪১৭ জন, গতবারের চেয়ে ১৫০ জন বেশি।
আপিল শুনানি শেষে সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, আপনারা হয়তো আমাদের সমালোচনা করতে পারে অনেকেই। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের বিষয়টা আমরা কীভাবে ছেড়ে দিয়েছি, আপনারা দেখেছেন। কারণ আমরা চাই নির্বাচন অংশগ্রহণ থাকুক। আমরা চাই যে সবার অংশগ্রহণে একটা সুন্দর নির্বাচন হোক। আপনারা সহযোগিতা না করলে কিন্তু হবে না।



