
মোঃ সামিউল আলম, বিরামপুর, দিনাজপুরঃ
দিনাজপুরের বিরামপুর রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে আশ্রয় নেওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন ও ভবঘুরে এক নারী ফুটফুটে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।
সোমবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্টেশনের প্লাটফর্মে শুয়ে থাকাবস্থায় ওই নারী সন্তান প্রসব করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘ তিন-চার মাস ধরে নাম-পরিচয়হীন গর্ভবতী ওই নারীকে রেলস্টেশনের প্লাটফর্মে থাকতে দেখা যাচ্ছিল। তিনি কারও সঙ্গে তেমন কথা বলতেন না, কারও কাছ থেকে কিছু চাইতেনও না। কেউ স্বেচ্ছায় খাবার দিলে তবেই খেতেন।
সরেজমিনে রেলস্টেশনে গিয়ে জানা যায়, ঘটনার সময় রেলস্টেশনের আশপাশের বাড়ির কয়েকজন মহিলা মানবিক কারণে এগিয়ে এসে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুটির নাড়ি কেটে শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং মা ও নবজাতককে কাপড় ও কম্বল দিয়ে সহায়তা করেন। বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ আছেন।
এ খবর মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন রেলস্টেশনের প্লাটফর্মে মা ও শিশুটিকে দেখতে ভিড় জমান। এসময় স্থানীয় কয়েকজন অর্থ সহায়তা দিয়ে মায়ের খাবার ও ঔষধের ব্যবস্থা করেন।
ফুটফুটে শিশুটির মায়াবী মুখ দেখে অনেক মহিলা মমতায় আগলে নিতে শিশুটিকে কোলে তুলে নেন। কিন্তু কেউ শিশুটির বাবার পরিচয় দিতে পারেননি। তারপরও সমাজ ব্যবস্থায় কেউ না কেউ পাশে থেকে সহযোগিতার হাত বাড়ায়।
স্থানীয়রা জানান, মা ও শিশুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে চেষ্টা করা হলেও ওই নারী যেতে রাজি হননি। ফলে মা ও শিশু বর্তমানে রেলস্টেশনের প্লাটফর্মেই অবস্থান করছেন। তবে রেলস্টেশনে কর্মরত কর্মচারীরা মা ও সন্তানকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে বিরামপুর রেলস্টেশন থাকা স্থানীয় কয়েকজন বলেন, “ঘটনাটি জানার পর আমরা মা ও নবজাতক সন্তানের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। তবে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসার ব্যাপারে রাজি করানো কঠিন হচ্ছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছেন, মা ও শিশুর নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবা দপ্তরের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানটির পিতার পরিচয় নিয়েও এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিচয় বিহীন মানসিক ভারসাম্যহীণ যুবতী নারীদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনে সরকারের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না থাকায় আমাদের দেশের অনেক এলাকায় এভাবেই জন্ম নিচ্ছে নাম-ঠিকানা বিহীন অনেক সন্তান। পরিচয়হীন এসব সন্তানের বেড়ে ওঠা ও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।



