
কিশোরগঞ্জ থেকে নিজাম উদ্দীনঃ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং স্পর্শকাতর মামলার জট খোলার ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলায় নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের শেষের দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে ‘জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়, যা তার কর্মজীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন।
শ্রেষ্ঠ ওসির স্বীকৃতি
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য অভিন্ন মানদণ্ডের আলোকে ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে কিশোরগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী তার হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন। তার নেতৃত্বে সদর মডেল থানা পুলিশ মাদক উদ্ধার, ওয়ারেন্ট তামিল এবং জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনায় বিশেষ পারদর্শিতা প্রদর্শন করে।
এ বিষয়ে ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “এই স্বীকৃতি আমাকে ভালো কাজের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হতে অনুপ্রাণিত করবে। কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার সকল অফিসার ও ফোর্সের সহযোগিতায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।”
চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন
ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনের কর্মতৎপরতার আরেকটি বড় উদাহরণ ছিল ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের শ্রেণিকক্ষে লাঠি হাতে প্রবেশ করা সেই আলোচিত যুবকের গ্রেফতার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দ্রুততম সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কিশোরগঞ্জ থেকে জুবায়ের আলী (তাকি) নামের ওই যুবককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় তার নেতৃত্বাধীন পুলিশ টিম। এই অভিযানটি জাতীয় পর্যায়েও প্রশংসিত হয়েছিল।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও মামলার ব্যবস্থাপনা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর কিশোরগঞ্জসহ সারাদেশে রাজনৈতিক মামলার হিড়িক পড়ে। কিশোরগঞ্জ সদর থানায়ও বেশ কিছু মামলা দায়ের হয়। সে সময় ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন। মামলার ক্ষেত্রে যাতে নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার না হয় এবং আইনি প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ থাকে, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে, বাদীর দেওয়া এজাহার অনুযায়ী মামলা রুজু হলেও তদন্তে নির্দোষ কাউকে জড়ানো হবে না।
কিশোরগঞ্জ সদর এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিধানে তিনি নিয়মিত বিট পুলিশিং এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করেছেন। এছাড়াও নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধারসহ বিভিন্ন মানবিক সংকটে পুলিশের দ্রুত সাড়া দেওয়ার বিষয়টি তার সময়ে দৃশ্যমান হয়েছে।
কিশোরগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে সদর থানা পুলিশ আগামীতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং একটি নিরাপদ কিশোরগঞ্জ গড়তে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।



