
সাগর আহমেদ জজ, নেত্রকোনাঃ
পুলিশ মানেই শুধু অপরাধী ধরা কিংবা আইনি কড়াকড়ি নয়, পুলিশ যে সমাজের প্রকৃত অভিভাবক হয়ে বিপদে পাশে দাঁড়াতে পারে, তার এক অনন্য নজির গড়লেন পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির অপব্যবহারে তরুণ সমাজের একটা বড় অংশ যখন অনলাইন গেমস, বেটিং ও জুয়ার মতো মরণনেশায় জড়িয়ে পড়ছে, ঠিক তখনই সন্তানদের বাঁচাতে অভিভাবকদের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক ও সময়োপযোগী কিছু পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
অপরাধ ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে, অপরাধের উৎস বন্ধে ওসির এমন দূরদর্শী ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতিমধ্যেই সর্বস্তরের মানুষের মন জয় করে নিয়েছে। সন্তানকে সুরক্ষিত রাখতে ওসির গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শসমূহঃ বর্তমানে স্মার্টফোনের অপব্যবহারে সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরিবারে অশান্তি নেমে আসছে। অনেকে না বুঝেই বাবা-মায়ের কষ্টার্জিত অর্থ অপচয় করে অপরাধের ঝুঁকিতে পড়ছে।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে সন্তানদের বাঁচাতে ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিভাবকদের কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। (১) কড়া নজরদারিঃ সন্তান মোবাইলে কী করছে, তার ওপর নিয়মিত ও আন্তরিক নজরদারি রাখুন।(২) যোগাযোগ ও অ্যাপস চেকঃ সন্তান মোবাইলে কোন কোন অ্যাপ ব্যবহার করছে এবং কার কার সাথে মিশছে বা কথা বলছে, সে বিষয়ে গোপনে খেয়াল রাখুন। (৩) বন্ধুসুলভ কাউন্সেলিংঃ সন্তানকে বকাঝকা না করে অনলাইন গেমস ও জুয়ার মারাত্মক ক্ষতিকর দিকগুলো ভালোবেসে বুঝিয়ে বলুন। (৪) স্মার্টফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণঃ প্রয়োজন ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের হাতে ব্যক্তিগত স্মার্টফোন দেবেন না, দিলেও তার ব্যবহার সীমিত করুন। (৫) মাঠের খেলায় ফেরানোঃ সন্তানকে ঘরের কোণে মোবাইল বন্দি না রেখে মাঠের খেলাধুলা, বই পড়া ও বিভিন্ন সামাজিক-সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখুন। (৬) পুলিশকে তথ্য দিনঃ আপনার এলাকায় কোনো সন্দেহজনক অনলাইন চক্র বা জুয়ার আড্ডার খোঁজ পেলে সাথে সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান।
ওসির হৃদয়স্পর্শী আহ্বানঃ পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,”আজকের সামান্য অসচেতনতা আগামী দিনের বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। সন্তান আপনার, ভবিষ্যৎ দেশের। আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের সন্তানদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করি।
পূর্বধলা থানা পুলিশের এই মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সুশীল সমাজ থেকে শুরু করে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। স্থানীয়রা বলছেন, ওসির এই সচেতনতামূলক পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। লাঠির জোর বা মামলার ভয় দেখিয়ে নয়, ভালোবাসা আর সচেতনতা দিয়ে সমাজকে বদলে দেওয়ার এই চেষ্টা পূর্বধলা থানা পুলিশের ভাবমূর্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।



