
বাংলার আলো টিভি ডেস্কঃ
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের দক্ষিণ শাকতলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আনোয়ার হোসেন (৩৫) নামের ওই প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আনোয়ার হোসেন স্থানীয় কেরামত আলী বেপারী বাড়ির মফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুয়েতে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসে অবস্থানকালে আনোয়ার নিয়মিত উপার্জিত অর্থ স্ত্রী আকলিমা আক্তারের কাছে পাঠাতেন। সেই অর্থ দিয়ে পরিবারের নামে সম্পদও ক্রয় করা হয়। এদিকে প্রায় ছয় মাস আগে দুই সন্তানের জননী আকলিমা আক্তার স্বামীর দূর সম্পর্কের এক ভাগনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে বাড়ি ছেড়ে গিয়ে ওই যুবককে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রায় ৯ থেকে ১০ দিন আগে কুয়েত থেকে দেশে ফেরেন আনোয়ার হোসেন। দেশে ফিরে তিনি সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন এবং সংসার টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ নেন। তবে একপর্যায়ে তার স্ত্রী যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে পরিবারের দাবি।
স্বজনরা জানান, গত শনিবার আকলিমা আক্তার তার স্বামীর কাছে তালাকের নোটিশ পাঠান। এরপর থেকেই তিনি চরম মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। পরিবারের ধারণা, অপমানবোধ, হতাশা ও পারিবারিক সংকটের কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
ঘটনার পর নিহতের পরিবার এ ঘটনার জন্য আকলিমা আক্তারকে দায়ী করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।



