শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০৩:২২ পূর্বাহ্ন
Headline
গাইবান্ধার সাঘাটায় মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্টা, শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিলেন জনতা নেত্রকোনার পূর্বধলায় প্রযুক্তির ছোবল থেকে সন্তানকে বাঁচাতে দূরদর্শী উদ্যোগ নিলেন ওসি নড়াইলে চোরাই মোটরসাইকেল সহ যুবক গ্রেফতার মেসির পায়ের যাদু জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কুমিল্লায় জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত  গাইবান্ধায় জমে উঠেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পাতা খেলা নোয়াখালীর চাটখিলে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন সুনামগঞ্জে দুই প্রবাসীর উদ্যেগে সদর থানার ‎ওসি রতন শেখ দিনমজুর সাজুকে আর্থিক সহায়তা প্রদান জনগণের মত উপেক্ষা করলে সরকার এক বছরও টিকতে পারবে না–সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এটিএম মাসুম আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত
ভিডিও নিউজ
গাইবান্ধার সাঘাটায় মাদরাসা ছাত্রকে বলাৎকারের চেষ্টা, শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিলেন জনতা মেসির পায়ের যাদু গাইবান্ধায় জমে উঠেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পাতা খেলা নোয়াখালীর চাটখিলে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন সুনামগঞ্জে দুই প্রবাসীর উদ্যেগে সদর থানার ‎ওসি রতন শেখ দিনমজুর সাজুকে আর্থিক সহায়তা প্রদান আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত ভোলাহাটে বিদ্যুতের সর্টসার্কিটের আগুনে ৩টি বসতবাড়ীর ১১টি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মিভূত নরসিংদীর শিবপুরে ৪টি গোডাউন ও বসত ঘরের ৩টি রুমের মালামাল পুড়ে ছাই যশোরে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন। বীরগঞ্জে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ
ঠাকুরগাঁওয়ের পায়ের আঙুল দিয়ে লিখে স্নাতক পাশ করা রাজিয়া খাতুনের স্বপ্ন শুধু একটি চাকরি 
/ ১৪৪ Time View
Update : শনিবার, ১৭ মে, ২০২৫, ২:১৩ অপরাহ্ন

 

 

মোঃ মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁওঃ

জন্ম থেকেই দুই হাত অকার্যকর। আঙুলগুলো খাটো, বাঁকা এবং স্পর্শ করার শক্তিটুকুও ঠিক নেই। কিন্তু পা-ই হয়ে উঠেছে তার আশার দিগন্ত। ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মিস্ত্রিপাড়া গ্রামের রাজিয়া খাতুন সেই মানুষ, যিনি পায়ের আঙুলে কলম ধরে এসএসসি থেকে স্নাতক পর্যন্ত প্রতিটি পরীক্ষায় পাস করেছেন। মাস্টার্স পরীক্ষাও দিয়েছেন, একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও থেমে যাননি। এবার তার একমাত্র চাওয়া নিজের যোগ্যতায় একটি চাকরি।
সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির এক কোণে পায়ের আঙুলে কলম ধরে চাকরির আবেদনপত্র লিখছিলেন রাজিয়া। পাশে ছিলেন স্বামী আবু সুফিয়ান ও ছোট্ট কন্যা। দৃশ্যটি যেন জীবনের প্রতিচ্ছবি, সংগ্রাম, স্বপ্ন আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির গল্প।
রাজিয়ার বাড়ি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মিস্ত্রিপাড়া গ্রামে। বাবা দিনমজুর, মা গৃহিণী। ভাইয়েরা প্রাথমিকের গণ্ডিও পেরোতে পারেননি, অথচ রাজিয়া ঠিকই কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়েছেন। শুধু পড়াশোনাই নয়, প্রতিটি দিন, প্রতিটি মুহূর্ত ছিল তার কাছে সংগ্রামের।

 

 

২০২৩ সালে রাজিয়ার বিয়ে হয় একই এলাকার দিনমজুর আবু সুফিয়ানের সঙ্গে। সংসারে আসে এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান। ভালোবাসা আর মমতায় গড়ে ওঠা ছোট্ট সংসারটি হঠাৎ ছন্দপতনে ভেঙে পড়ে। কাজ করতে গিয়ে আহত হন সুফিয়ান। এখন আর আগের মতো উপার্জন করতে পারেন না। এই কঠিন বাস্তবতায় রাজিয়া ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কাছে একটি চাকরির আবেদন করেন। বলেন, ‘হাতে কিছু পারি না, কিন্তু মন দিয়ে সব পারি। শুধু একটা চাকরি চাই, যেন আমার পরিবারটা বাঁচে, আমার মেয়ের ভবিষ্যৎটা নিরাপদ হয়।’ দাপ্তরিক সহানুভূতি থাকলেও এখনো মেলেনি কাঙ্ক্ষিত চাকরিটি। কয়েকটি চাকরির পরীক্ষায় ভালো করলেও সাক্ষাৎকার বোর্ডে গিয়েই ফিরে আসতে হয়েছে। ‘শুধু শারীরিক অবস্থা দেখে কেউ আর ডাকেন না।’ বলেন রাজিয়া, ‘খুব অপমান লাগে। মনে হয়, শুধু একটু সুযোগ পেলেই প্রমাণ করতে পারতাম আমি পারি।

 

 

স্বামী আবু সুফিয়ান বলেন, ‘রাজিয়া শুধু স্ত্রী না, সে আমার অনুপ্রেরণা। সে পা দিয়ে রান্না করে, ঘর সামলায়, সন্তানকে দেখে। সরকার যদি তার জন্য একটা চাকরির ব্যবস্থা করতো আমাদের জীবনে নতুন আলো আসতো।

 

 

পায়ে লিখে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কাছে চাকরির আবেদন করছেন প্রতিবন্ধী রাজিয়া। পায়ে লিখে জেলা প্রশাসকের কাছে চাকরির আবেদন করছেন প্রতিবন্ধী রাজিয়া। ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতিতে তোলা ছবিতে পাশে স্বামী আবু সুফিয়ান ও তাঁদের মেয়ে। প্রতিবেশীরাও অবাক রাজিয়ার সাহস দেখে। সালেহা বেগম নামের একজন বলেন, ‘ওর মতো মেধাবী আর পরিশ্রমী মেয়ে খুব কম দেখা যায়। ওকে সহায়তা করা রাষ্ট্রের কর্তব্য।’

 

 

 

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক মনোতোষ কুমার দে বলেন, ‘রাজিয়ার মতো শিক্ষিত প্রতিবন্ধী নারীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সরকারের নৈতিক দায়। তার মতো ব্যতিক্রমী উদাহরণ সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’রাজিয়ার পায়ে লেখা প্রতিটি বাক্য, প্রতিটি আবেদনপত্র যেন সমাজের কাছে এক নীরব প্রশ্ন যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আমি কেন বঞ্চিত ?

আপনার মতামত লিখুন :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

More News Of This Category
Our Like Page

Recent Comments

প্রদর্শনের মতো কোন মন্তব্য নেই।